১২:১৭ পি.এম
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশুদের স্কুলে যাওয়ার পথে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করেছে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। এর ফলে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে শিশুদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনটি এই ঘটনাকে একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত করছে। পশ্চিম তীরে ইসরাইলি স্থল অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বাড়তে থাকে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষ এবং শিশুদের ওপর।
অবরুদ্ধ বাস্তবতায় অনেক ফিলিস্তিনি শিশুর স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খাইর গ্রামে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার পথ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, পাশের কারমেল বসতি থেকে আসা লোকজন এই বাধা সৃষ্টি করেছে।
গ্রাম পরিষদের প্রধান খলিল হাতালিন জানান, এটি শিশুদের নিরাপদ চলাচলের একমাত্র পথ। কিন্তু সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা সরাসরি বসতির কাছ দিয়ে যায়। এর ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: দুর্গম দ্বীপে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকদের আকাশ থেকে ঝাঁপ
তিনি বলেন, ‘টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের স্কুলে যাওয়ার পথটি বন্ধ করে দিয়েছে। ইসরাইলি পক্ষ আমাদের একটি ভিন্ন পথে যেতে বলছে, যা খুবই বিপজ্জনক ও দীর্ঘ। তাই আমরা আমাদের প্রধান পথ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছি, যে পথ দিয়ে আমাদের শিশুরা সবসময় যাতায়াত করেছে।’
গ্রাম পরিষদের প্রধান আরও উল্লেখ করেন, বসতি স্থাপনকারীদের আসল লক্ষ্য কেবল রাস্তা নয়, বরং নতুন বসতি সম্প্রসারণ এবং পুরো জমি দখল করা। মানবাধিকার সংগঠনটি এই ঘটনার মূলকৌশল হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারী ও ইসরাইলি বাহিনী একযোগে ফিলিস্তিনিদের ভয় দেখিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করছে, যা বাস্তবিকভাবে জাতিগত নিধনের শামিল।
পশ্চিম তীরে ইসরাইলের স্থল অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বেড়েই চলেছে। নতুন চেকপোস্ট, সড়ক অবরোধ এবং বসতি সম্প্রসারণের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল যদিও এই বসতিগুলোকে অবৈধ বলছে, বাস্তবে এর বিস্তার থেমে নেই, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষ এবং শিশুদের ওপর।
আরও পড়ুন: শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন