বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৮:৫২ পি.এম
বিশ্বের নানা প্রান্তে বহুল আলোচিত এপস্টেইন ফাইলস। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন গড়ে তুলেছিলেন এক নারকীয় সাম্রাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশ করা এপস্টেইন ফাইলসের নথি প্রকাশ হওয়ার পর সবখানে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এ তালিকায় পাওয়া গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, টেসলার মালিক ইলন মাস্ক—এমনকি মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসসহ অনেকের নাম।
এবার সেই নথিতে উঠে এসেছে বলিউডের পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের নাম। সোজাসাপটা কথা বলার জন্য পরিচিত এ নির্মাতার নাম কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সংক্রান্ত নথিতে দেখা গেছে। সম্প্রতি আমেরিকার বিচার বিভাগ প্রায় ৩০ লাখ নথির একটি বিশাল ফাইল প্রকাশ করেছে, যেখানে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে এই ভারতীয় পরিচালকও রয়েছেন।
৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নতুন ফাইলগুলোতে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মা, বিখ্যাত পরিচালক মীরা নায়ারের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চমক সৃষ্টি করেছে অনুরাগ কাশ্যপের নাম। প্রকাশিত ইমেলে তাকে ‘বলিউড গাই’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে।
নথির ইমেলগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এপস্টেইনের কিউবা সফরসহ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে অনুরাগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত বৌদ্ধধর্ম, প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা বিষয়ক একটি কর্মশালায় উপস্থিত হওয়ার প্রত্যাশিত অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় তার নাম ছিল।
তবে নথিতে নাম থাকা মানেই যে অনুরাগ কাশ্যপ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কিংবা সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এমনকি এপস্টেইনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হওয়ার তথ্যও এখনো পরিষ্কার নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে এই ভাষণ সম্প্রচারের জন্য আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদন করেছে এনসিপি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
মাহাবুব আলম বলেন, “আমরা আজ নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছি। এখনও নির্দিষ্ট সময় বা ‘স্লট’ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তবে আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রচারের সময় নির্ধারণ করে আমাদের জানাবে।”
এদিকে, জামায়াতের আমিরের ভাষণ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারের অনুমতি চেয়ে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন দাখিল করেছে।
আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় এই ভাষণ প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে কোন দলকে জনপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরবে, সে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারির টিকাটুলি এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগের শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
কিছু জরিপে উঠে এসেছে যে বিএনপির পক্ষে তরুণ ভোটাররা নেই, সাংবাদিকদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইশরাক বলেন, এসব কথা গুরুত্বহীন। নির্বাচনের দিন, ১২ ফেব্রুয়ারি, সারা দেশের জনগণ তাদের পছন্দের দলকে প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল ভোটের মাধ্যমে জয়ী হবে।
তিনি আরও জানান, সারা দেশে যে ধরনের মানুষের সমাগম ঘটছে, আমাদের নেতা তারেক রহমান যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে মাইলের পর মাইল মানুষের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এটি রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনকেও ছুঁয়ে গেছে, এবং আমরা খুবই আশাবাদী।
ইশরাক বললেন, গত দুই দিন ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই সময়ে কিছু ছোটখাটো বিষয় শনাক্ত করা হয়েছে, যা কমিশনের কাছে জানানো হবে। তবে ঢাকা-৬ আসনে তেমন কোনো সমস্যা নেই। পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং আমরা বিশ্বাস করছি, ইনশাআল্লাহ, বিপুল ভোটে জয়ী হব।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জামেল হক মুক্তা এবং ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বুলবুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ টানা তিন জয়ের আনন্দ নিয়ে রাউন্ড রবিন লিগ শেষ করেছে। তাদের শেষ ম্যাচে আজ নেপালকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে। ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতকে লিগ পর্বে একবার হারিয়েছে। তবে কোচ পিটার জেমস বাটলার এবারও ভারতকে হারানোর পরিকল্পনা করছেন।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে লিগ পর্বের সকল ম্যাচে জয়লাভ করে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ভারতের পয়েন্ট ৬ এবং তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের মধ্যে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করার জন্য বাটলার সাতটি পরিবর্তন আনে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রতিমা মুন্দা বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। কিছু পরে, খেলার গতি বাড়াতে কোচ আলপি আক্তার, শান্তি মার্দি এবং সুরভি আকন্দ প্রীতিকে মাঠে নামান। আলপি আক্তার পরে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। এ ধরনের পারফরম্যান্সে বাটলার অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘নেপালের সঙ্গে খেললে আমাদের কঠোর লড়াই করতে হয়। তারা যোদ্ধা এবং আমাদের তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। মনে হয়, মেয়েরা এই কাজটা খুব ভালোভাবে করেছে, বিশেষ করে শুরুতে। পরে আমাদের গতি কিছুটা কমে ছিল।’
একাদশে পরিবর্তনের বিষয়ে বাটলার জানান, ‘কয়েকজনকে বিশ্রাম দিতে সাতটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মনে করি, দলের শক্তি বেঞ্চের শক্তির ওপর নির্ভর করে। মৌমিতা অসাধারণ ছিল, সুরভি রানী ভালো করেছে। আজকের ম্যাচে আমাদের জন্য প্রশংসনীয় কিছু পজিটিভ দিক ও পাঠ ছিল।’
শনিবার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। রাউন্ড রবিন লীগে তারা ভারতকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছিল। বাটলারের আশা, ফাইনালেও আবার সেই জয় পুনরাবৃত্তি হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের একবার হারিয়েছি, এবারও হারাতে হবে। আমরা আমাদের খেলার ধরণ পরিবর্তন করব না। যদি তারা ফাইনালের আগে আমাদের অনুশীলনের জন্য এই মাঠটি দেয়, তবে আমরা সেখানে প্রস্তুতি নেব। আমি আশা করি, তারা তা দেবে।’
বাটলার আরও বলেন, ‘আসলে এখানে যা তাদের থেকে পাই, সবকিছুই বোনাস। মেয়েরা ভাল করেছে। আমি তাদের নিবেদন ও মনোযোগ নিয়ে সন্তুষ্ট, এবং আশা করি, আমরা কাজটি শেষ করতে পারব। ভারতের বিপক্ষে খেলা কঠিন হবে, কারণ তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছেন। তারা শক্তিশালী এবং লম্বা, এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমীন।
৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানান তিনি।
মনিরা শারমীন বলেন, ‘পাবনার ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, জামায়াতের লোক ভোট দিতে গেলে দিনের বেলায় তাদের ক্ষতি হবে। প্রতিপক্ষকে এমন ভয়ঙ্কর হুমকি দিলে, নির্বাচনের দিন কী ঘটবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এর আগে জামায়াতের এক প্রার্থীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।’
এনসিপির এই নেত্রী অভিযোগ করেন, ঈশ্বরদী আটঘরিয়া (পাবনা-৪) আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবও তার দলের বিরুদ্ধে কথা বললে জিভ কাটার হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জামায়াত প্রার্থীকে অগ্রহণযোগ্য শিক্ষা দিচ্ছেন। আমরা তাকে বলব, এই শিক্ষা আগে তাদের নিজের দলের প্রার্থীদের দিতে।’
মনিরা শারমীন গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি করার অভিযোগ করে বলেন, ‘এই দল জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইছে, কিন্তু হিন্দুদের আলাদা ভোট বাক্সে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
নারী কর্মীদের হেনস্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব দল নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলে, তাদের হাতেই নারী হেনস্তার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাতে আমাদের কীভাবে আস্থা রাখা সম্ভব?’
এছাড়া, মনিরা শারমীন পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের ব্যানার ও ফেস্টুন পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, ‘প্রতিপক্ষ দলের ব্যানার পোড়ানোর পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিল হলফনামায় তথ্য গোপন করে কিভাবে নির্বিকার থাকছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট। পুলিশ উপস্থিত থেকে জামায়াতের প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন তাতে নিস্ক্রিয়।’
সদস্য সচিব আরো বলেন, ‘যদি নির্বাচনের আগেই প্রশাসন, পুলিশ ও ইসি নির্বিকার থাকে, তাহলে সাধারণ ভোটারের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়বে। বিএনসিসিকে ভোটকেন্দ্র থেকে সরাতে বিএনপির দাবি অন্যায় হচ্ছে, অথচ ইসি সেই দাবি মেনে নিচ্ছে। এ বিষয়ে অন্য দলের মতামত নেওয়া হয়নি। ইসি বর্তমানে একটি দলের অনুসারী হিসেবে কাজ করছে।’
মনিরা বলেন, ‘একটা দলের রাজনীতি করা সুযোগ পাওয়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর, তারা বিএনসিসিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রেখে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনসিসি থাকলে তারা কেন্দ্র দখল করতে পারতো না। ইসির এই পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তারা বিএনপির কাছে নতজানু হয়ে যাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে সুন্দর নির্বাচনের আশা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইসি পক্ষপাতিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে এবং বিএনপিকে অভয় দেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক সংগঠনের মতো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ