বুধবার, ৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৮:৫৯ পি.এম
বাংলাদেশ টানা তিন জয়ের আনন্দ নিয়ে রাউন্ড রবিন লিগ শেষ করেছে। তাদের শেষ ম্যাচে আজ নেপালকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে। ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতকে লিগ পর্বে একবার হারিয়েছে। তবে কোচ পিটার জেমস বাটলার এবারও ভারতকে হারানোর পরিকল্পনা করছেন।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে লিগ পর্বের সকল ম্যাচে জয়লাভ করে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ভারতের পয়েন্ট ৬ এবং তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের মধ্যে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করার জন্য বাটলার সাতটি পরিবর্তন আনে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রতিমা মুন্দা বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। কিছু পরে, খেলার গতি বাড়াতে কোচ আলপি আক্তার, শান্তি মার্দি এবং সুরভি আকন্দ প্রীতিকে মাঠে নামান। আলপি আক্তার পরে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। এ ধরনের পারফরম্যান্সে বাটলার অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘নেপালের সঙ্গে খেললে আমাদের কঠোর লড়াই করতে হয়। তারা যোদ্ধা এবং আমাদের তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। মনে হয়, মেয়েরা এই কাজটা খুব ভালোভাবে করেছে, বিশেষ করে শুরুতে। পরে আমাদের গতি কিছুটা কমে ছিল।’
একাদশে পরিবর্তনের বিষয়ে বাটলার জানান, ‘কয়েকজনকে বিশ্রাম দিতে সাতটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মনে করি, দলের শক্তি বেঞ্চের শক্তির ওপর নির্ভর করে। মৌমিতা অসাধারণ ছিল, সুরভি রানী ভালো করেছে। আজকের ম্যাচে আমাদের জন্য প্রশংসনীয় কিছু পজিটিভ দিক ও পাঠ ছিল।’
শনিবার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। রাউন্ড রবিন লীগে তারা ভারতকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছিল। বাটলারের আশা, ফাইনালেও আবার সেই জয় পুনরাবৃত্তি হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের একবার হারিয়েছি, এবারও হারাতে হবে। আমরা আমাদের খেলার ধরণ পরিবর্তন করব না। যদি তারা ফাইনালের আগে আমাদের অনুশীলনের জন্য এই মাঠটি দেয়, তবে আমরা সেখানে প্রস্তুতি নেব। আমি আশা করি, তারা তা দেবে।’
বাটলার আরও বলেন, ‘আসলে এখানে যা তাদের থেকে পাই, সবকিছুই বোনাস। মেয়েরা ভাল করেছে। আমি তাদের নিবেদন ও মনোযোগ নিয়ে সন্তুষ্ট, এবং আশা করি, আমরা কাজটি শেষ করতে পারব। ভারতের বিপক্ষে খেলা কঠিন হবে, কারণ তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছেন। তারা শক্তিশালী এবং লম্বা, এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমীন।
৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানান তিনি।
মনিরা শারমীন বলেন, ‘পাবনার ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, জামায়াতের লোক ভোট দিতে গেলে দিনের বেলায় তাদের ক্ষতি হবে। প্রতিপক্ষকে এমন ভয়ঙ্কর হুমকি দিলে, নির্বাচনের দিন কী ঘটবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এর আগে জামায়াতের এক প্রার্থীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।’
এনসিপির এই নেত্রী অভিযোগ করেন, ঈশ্বরদী আটঘরিয়া (পাবনা-৪) আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবও তার দলের বিরুদ্ধে কথা বললে জিভ কাটার হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জামায়াত প্রার্থীকে অগ্রহণযোগ্য শিক্ষা দিচ্ছেন। আমরা তাকে বলব, এই শিক্ষা আগে তাদের নিজের দলের প্রার্থীদের দিতে।’
মনিরা শারমীন গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি করার অভিযোগ করে বলেন, ‘এই দল জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইছে, কিন্তু হিন্দুদের আলাদা ভোট বাক্সে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
নারী কর্মীদের হেনস্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব দল নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলে, তাদের হাতেই নারী হেনস্তার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাতে আমাদের কীভাবে আস্থা রাখা সম্ভব?’
এছাড়া, মনিরা শারমীন পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের ব্যানার ও ফেস্টুন পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, ‘প্রতিপক্ষ দলের ব্যানার পোড়ানোর পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিল হলফনামায় তথ্য গোপন করে কিভাবে নির্বিকার থাকছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট। পুলিশ উপস্থিত থেকে জামায়াতের প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন তাতে নিস্ক্রিয়।’
সদস্য সচিব আরো বলেন, ‘যদি নির্বাচনের আগেই প্রশাসন, পুলিশ ও ইসি নির্বিকার থাকে, তাহলে সাধারণ ভোটারের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়বে। বিএনসিসিকে ভোটকেন্দ্র থেকে সরাতে বিএনপির দাবি অন্যায় হচ্ছে, অথচ ইসি সেই দাবি মেনে নিচ্ছে। এ বিষয়ে অন্য দলের মতামত নেওয়া হয়নি। ইসি বর্তমানে একটি দলের অনুসারী হিসেবে কাজ করছে।’
মনিরা বলেন, ‘একটা দলের রাজনীতি করা সুযোগ পাওয়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর, তারা বিএনসিসিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রেখে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনসিসি থাকলে তারা কেন্দ্র দখল করতে পারতো না। ইসির এই পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তারা বিএনপির কাছে নতজানু হয়ে যাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে সুন্দর নির্বাচনের আশা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইসি পক্ষপাতিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে এবং বিএনপিকে অভয় দেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক সংগঠনের মতো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে। এই ইশতেহারের নাম ‘জনতার ইশতেহার’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর এক হোটেলে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকাশিত ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই বিপ্লবের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
জামায়াতের ইশতেহারে বলা হয়েছে—
এক. মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য (সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার) রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ ও একে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে।
দুই. শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিন. আধুনিক উক্ত এবং টেকসই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চা চালু করা হবে।
চার. জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতিস্বরূপ গঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরে আধুনিক ও টেকসই ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে।
পাঁচ. জুলাই বিপ্লবে শহীদ এবং যোদ্ধাদের জন্য প্রত্যেক মাসে অনুদান ও ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ছয়. জুলাই বিপ্লবে শহীদের পরিবারের জন্য আবাসন নির্মাণ এবং যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। আহত ও পঙ্গু যোদ্ধাদের চিকিৎসার খরচ সরকারি কোষাগার থেকে বহন করা হবে।
এছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের অগ্রাধিকার, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠনের উদ্যোগ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের মতো ২৬টি বিষয় জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে জায়গা করে নিয়েছে। তারা ৪১টি ভিশনও ইশতেহারে উল্লেখ করেছে।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রদত্ত সূচনা বক্তব্যে বলেন, "রাজনীতিতে সাধারণত বলা হয়, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু ৫৪ বছরের মধ্যে আমরা কি সেই স্লোগানের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পেরেছি? তবে আমাদের ইশতেহারে জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং পরামর্শের গুরুত্ব রয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরে গ্যাস লিকেজ ও বয়লার বিস্ফোরণের গুজব ছড়ানোর ফলে চীনা মালিকানাধীন একটি পরচুলা কারখানায় ভীতির অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই আতঙ্কের প্রভাবে ৭ জন নারিশ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, কারণ কেউ কেউ মনে করছেন সেখানে ভূতের প্রবেশ ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার বড়াইল এলাকায় অবস্থিত নর্থ হেয়ার প্রডাক্ট বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৭ নারী শ্রমিককে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৫ জন শ্রমিক বাড়ি ফিরে গেছেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস লিকেজ বা বয়লার বিস্ফোরণের খবর ছড়ানো হলেও কারখানায় গিয়ে কোনো ধরনের আলামত পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ বলছেন, কিছু সময় ধরে এই কারখানায় ‘ভূত’ বা ‘জিনের’ অস্তিত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছিল।
এ বিষয়ে নর্থ হেয়ার প্রডাক্ট বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার সাহাবাজ হোসেন মন্তব্য করেন, ‘কারখানায় ভূত আছে’ এই বিশ্বাসের কারণে নারিশ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কারনে সাতজন নারিশ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তা জানাতে কোম্পানির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কেমিক্যাল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে চায়না হেয়ার কারখানায় এসে টেস্ট করে কোনো আলামত পাননি। তবে শ্রমিকদের মানসিক চাপের কারণে অসুস্থতা হতে পারে বলেও তারা ধারণা করছেন। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন যে, বর্ধিত সময় কাজের কারণে নারিশ্রমিকদের শারীরিক শক্তির অভাবও একটি কারণ হতে পারে।
দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। এখানে অনেক চাইনিজ নাগরিক রয়েছেন। নারিশ্রমিকদের মধ্যে ভূতের অস্তিত্ব রয়েছে এমন মানসিকতা কাজ করছে, কিন্তু এখানে কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতির অবনতি করার চেষ্টা হতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানে বেতন কাঠামো নিয়ে কিছু অসন্তোষ রয়েছে, যা শ্রম অধিদফতরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’
এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত হেয়ার ক্যাপ বা চুলের টুপি তৈরি করে এবং চীন, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি করে। এখানে ৫০০-এর অধিক শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী এবং উত্তরা সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) মাদক কারবারি চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে।
এ অভিযানের সময়, তাদের কাছ থেকে ৫৭ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও মাদক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশেষ অভিযান চালায়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি), ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর)-এর উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ যা জানালেন, উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম পল্লবী থানার মিরপুর-১২ ডিওএইচএস এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি করে। এই সময়, কারের ড্যাশবোর্ডে বিশেষ কৌশলে লুকানো ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ রাজু মোল্লা (৩৮) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রাজু মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে, তুরাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ তার সহযোগী সুমন মিয়াকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে, রাজুর ভাড়া করা আরেকটি ফ্ল্যাট থেকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তার স্ত্রী সানজিদা আখতার (২৮) কে আটক করে ডিএনসি টিম।
গ্রেফতারদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের ফলে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় ইয়াবার একটি বড় চালান মজুত রয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর শিলমুন এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ জোৎস্না আকতার (৩০) নামের অপর একজন সদস্যকে আটক করা হয়।
পাচারের কৌশল ও অপরাধের ইতিহাস সম্বন্ধে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করছিলেন। ডিএনসি জানায়, গ্রেফতার প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
শামীম আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও তীব্র করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ