বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:১৬ পি.এম
মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) ১২৯ জন অভিবাসীকে আটক করেছে। আটককৃত অভিবাসীদের মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর প্রকাশ করেছে দ্য স্টার।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টায় কেদাহ রাজ্যের কুলিম জেলায় একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণস্থলে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। 'অপস সাপু' নামের এই অভিযানে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের ২০ সদস্যের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট দল কাজ করে। অভিযানটি গোয়েন্দা তথ্য এবং জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন জানান, অভিযানে মোট ১৫৯ জনের পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জন মালয়েশিয়ান নাগরিক এবং ১২৯ জন বিদেশি ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১২৯ অভিবাসীকেই আটক করা হয়।
আটক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা ওয়ার্ক পাস না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান (ওভারস্টে), এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারার ভঙ্গ।
আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং চারজন নারী রয়েছেন। জাতীয়তা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশি, ১১ জন পাকিস্তানি, ১০ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু অবৈধ অভিবাসী পালানোর চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকজন নির্মাণাধীন ভবনের উঁচু অংশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকানোর চেষ্টা করেন। তবে অভিযানকারী সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সবার আটক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। পরবর্তী তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একইসাথে নিয়োগকর্তাদের বৈধ কাগজপত্র এবং কর্মঅনুমতিবিহীন বিদেশি কর্মী নিয়োগ বা আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। এই সাপটিকে গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করেছে সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেস (থ্রি-এসএ)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ডোবা থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রথমে সাপটি দেখতে পান শিক্ষার্থী সাইমন সাকিব। এরপর তিনি থ্রি-এসএ’র সদস্যদের খবর দিলে, উদ্ধারকারী দলের সদস্য মোহাম্মদ ইমরান এবং মোহাম্মদ মোবারক মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া সাপটি বার্মিজ প্রজাতির অজগর। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৪-১৫ কেজি।
থ্রি-এসএ’র সদস্য মোহাম্মদ ইমরান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাবারের সংকট, পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সাপ প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে নাহিদ ইসলাম (২২) নামে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নাহিদ ইসলাম বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের চন্দ্রাবাজ গ্রামের বাসিন্দা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নাহিদ ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি বৃহস্পতিবার সকালে তার বাবাকে মারধর করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুরে মাদক বিরোধী অভিযানে যান ইউএনও মুরাদ হোসেন।
অভিযানে মাদক সেবনের বিষয়টি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক নাহিদকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন বলেন, সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ চোরাই ১১টি গরু এবং গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আন্তঃজেলা গরুচোর দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসির রিকাবদার এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ফকিরহাট থানায় করা একটি案件ের তদন্তের সময় আসামিদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ অভিযান চালায়। বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ফকিরহাটের শিউলি ফিলিং স্টেশন থেকে গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয় এবং সেখানে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে আছেন- ফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাগাত এলাকার ৪০ বছর বয়সী ইয়ারান শেখ, রামপাল উপজেলার সোলাকড়া গ্রামের ২৭ বছর বয়সী নাহিদ শেখ এবং খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের ৩৮ বছর বয়সী আরিফ মোল্লা।
পুলিশ সুপার যোগ করেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। উদ্ধার করা ১১টি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপও।
তিনি আরও জানান, চোরাই গরু পাচার ও আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধারকৃত মালামাল আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় একটি সাবেক বাসচালকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অন্তত ২৮ কোটি রুপি নগদ অর্থ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মিনার মন্ডল নামে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনার মন্ডল পূর্বে বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন, তবে বর্তমানে তিনি পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডলের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত। টুলু মন্ডলকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেতা অনুব্রত মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জানা যায়।
পুলিশ বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে মিনার মন্ডলের বাড়িতে অভিযান শুরু করে। প্রথমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি রুপি নগদ অর্থ উদ্ধার হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে এর পরিমাণ ২৮ কোটি রুপির বেশি হয়ে যায়। এত বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতে গিয়েও পরিচালিত পাঁচটি টাকা গণনার যন্ত্র বিকল হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পুলিশের হিসেবে, উদ্ধার হওয়া ১৫ কেজি সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি রুপি। মিনার মন্ডল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন যে, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ এবং সোনা টুলু মন্ডল এবং তাঁর কথিত অবৈধ সিন্ডিকেটের মালিকানাধীন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিনার মন্ডলের সঙ্গে টুলু মন্ডলের মালিকানাধীন পাথরের খনি এবং ক্রাশিং ইউনিটের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং সম্পদ তাঁর কাছে এসেছে এবং এর উৎস কী সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানটিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। তবে, পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তদন্ত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিকমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বার্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার প্রকৃত মালিকানা, উৎস এবং সম্ভাব্য অবৈধ লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ