বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৫:২০ পি.এম
মালয়েশিয়ায় প্রকাশ্যে যত্রতত্র সিগারেটের ফিল্টার ফেলে বিপাকে পড়েছেন ২৮ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি যুবক। মো. সুলতান নামে পরিচিত ওই তরুণ পেশাগতভাবে একজন প্রোডাকশন অপারেটর। আইন ভঙ্গের কারণে আদালত তাকে ১ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে সমাজসেবামূলক কাজ সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) জোহর বাহরুর জেলা আদালতের বিচারক চে ওয়ান জাইদি চে ওয়ান ইব্রাহিমের সামনে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত দোভাষীর সাহায্যে বাংলা ভাষায় অভিযোগটি পড়ে শুনানোর পর অভিযুক্ত মো. সুলতান নিজের দোষ স্বীকার করেন।
বিচারক তাকে নগদ ১ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা করেন এবং তার অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এর পাশাপাশি, তাকে মোট ৬ ঘণ্টা সমাজসেবামূলক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কাজটি তিন দিনে, প্রতিটি সেশনে দুই ঘণ্টা করে করতে হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
মামলার অনুসারে, গত ১ জানুয়ারি রাত ১টা ২৭ মিনিটে সুলতান জোহর বাহরুর স্টুলাং লাউত এলাকার জালান ইব্রাহিম সুলতানে সিগারেটের একটি ফিল্টার ফেলেন। নির্দিষ্ট পাত্রে না ফেলে জনসমক্ষে ফেলার অপরাধের সুবাদে তাকে তৎক্ষণাৎ চিহ্নিত করা হয়।
সুলতানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনপরিচ্ছন্নতা আইন ২০০৭’ (আইন ৬৭২) এর ৭৭এ (১) ধারা লঙ্ঘনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করা হয়। এই ধারায় সম্প্রতিক公開 বর্জ্য ফেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই আইন অনুসারে, সর্বোচ্চ ২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা ও ১২ ঘণ্টা সমাজসেবামূলক কাজের বিধান রয়েছে।
মামলাটি পরিচালনা করেন প্রসিকিউশন অফিসার রুবিয়া মৌলুদ, যখন আদালতে অভিযুক্তের পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরী আল-মালিকি যদি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেবে বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নূরী আল-মালিকি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন এমন খবর ফাঁস হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি এই হুমকি দেন। খবরটি প্রকাশ করেছে এএফপি।
ট্রাম্পের এক বক্তব্যে বলেন, আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হলে তা ইরাকের জন্য একটি ‘খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত’ হবে। ইরাকের পার্লামেন্টে সবচাইতে বড় শিয়া জোট তাকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থী করেছে। তারা দাবি করছে যে, তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশে শাসন পরিচালনার জন্য।
গত নভেম্বরে ইরাকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৩২৯ আসনের পার্লামেন্টে শিয়া জোটগুলো ১৮৭টি আসনে জয় অর্জন করেছে। এই নির্বাচনের পর, ইরাকের প্রেসিডেন্ট আবদুল লতিফ রশিদ আল-মালিকিকে তাঁর মনোনয়নের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, মালিকির নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে।
নূরী আল-মালিকি ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে ট্রাম্প তার পূর্বের শাসনামলকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেছেন, ‘মালিকির শাসনামলে দেশ দারিদ্র্য ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিল এবং সেটা আবার হতে দেয়া যাবে না।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘যদি তাঁর উগ্র নীতি ও আদর্শের কারণে তিনি পুনরায় নির্বাচন লাভ করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে আর সহায়তা করবে না।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পাশে না থাকলে ইরাকের উন্নয়ন ও স্বাধীনতার কোনো সম্ভাবনা নেই।’ তিনি পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘মেক ইরাক গ্রেট এগেইন!’
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর প্রভাব কমানোর প্রয়াসের একটি অংশ। ইরাক দীর্ঘসময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে।
একটি চিঠিতে মার্কিন প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি ইরাকের অভ্যন্তরীণ হলেও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী পরবর্তী সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পাশাপাশি, যদি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নতুন সরকারে অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে ইরাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে।
৭৫ বছর বয়সী আল-মালিকি ইসলামপন্থি দাওয়া পার্টির নেতা। তার শাসনামলে সুন্নি এবং কুর্দি গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট শক্তিশালী হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন, কিন্তু তারপরও তিনি রাজনীতিতে প্রভাবশালী রয়ে গেছেন এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
ইরাকের তেল রপ্তানি থেকে ইনকামের একটি বড় অংশ এখনও নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রয়েছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর একটি চুক্তির মাধ্যমে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, যা ইরাকের ওপর মার্কিন প্রভাব বজায় রেখেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোর-৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায়, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ ও ‘সন্তান’ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার বিশেষ প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী পথসভাগুলো বর্তমানে কার্যত জনসভায় পরিণত হচ্ছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে যশোর সদর উপজেলার খিতিবদিয়ায় অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি যশোরের হারানো রাজনৈতিক সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বী মানুষ আমার পথসভায় আসছেন। এটি এক সময় যশোরের রাজনৈতিক সৌন্দর্য ছিল। গত ১৬ বছরে আমরা এই বৈচিত্র্য হারিয়েছি। আমরা নিজেদের মধ্যে গায়ের রঙ, ধর্ম এবং রাজনীতির কারণে বিভক্ত হয়ে পড়েছি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে পরিকল্পিতভাবে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ যদি একত্রিত হয়, তাহলে যেকোনো ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করা সম্ভব।’
৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নেতা অমিত বলেন, ‘বিএনপি যেন ক্ষমতায় না থাকে, তবে জনসাধারণের জানমালের রক্ষক হিসেবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপি অতীতেও শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। যশোরের সুষম উন্নয়নের জন্য ধানের শীষের বিকল্প কিছু নেই।’
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আপনাদের প্রত্যেককে এক একজন ‘ধানের শীষের প্রার্থী’ হিসেবে পাড়া-প্রতিবেশীতে আমার সালাম ও বার্তা পৌছাতে হবে।’
এই নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির সদর উপজেলা সভাপতি আব্দার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জারুল হক খোকনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় বেশ কয়েকশ চেয়ার ও কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পূর্বঘোষিতভাবে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী, সকাল থেকে বিভিন্ন দলের জাতীয় পর্যায়ের প্রার্থী উপস্থিত হতে শুরু করেন। অনুষ্ঠান শুরু হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং অন্যান্য প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী ও সমর্থকরা সারিতে বসার জন্য চেয়ার পেতে হট্টগোল শুরু করেন।
এরপর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময়ে মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙাচোদের শিকার হয়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়ে পড়েন। একইসাথে ক্ষুব্ধ জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়েছিল।
জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে জানান, 'পূর্ব পরিকল্পনার ভিত্তিতে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।'
অপরদিকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল মন্তব্য করেন, 'উগ্রবাদী জামাতিরা পূর্ব পরিকল্পনায় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর আগে তারা হামলা চালিয়েছিল। এতে আমাদের দলের অনেক নেতা আহত হয়েছেন এবং সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।'
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল সাংবাদিকদের জানান, 'আমরা সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম, কিন্তু একটি বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি এবং বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে।'
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, 'পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন টেকনাফে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বিশেষভাবে-আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময় যেন এই অঞ্চলে কোনও ধরনের অপ্রিয় ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখতে চলছে ফুট পেট্রোলিং এবং সতর্কতামূলক প্রচারণা।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ এলাকা। এখানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারের মতো নানা অপরাধ কার্যক্রমের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সম্পর্কিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
তবে এই উদ্বেগ দূর করার জন্য সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী মাঠে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিদিন টেকনাফ পৌর এলাকা, মুখ্য সড়ক ও সীমান্ত এলাকা জুড়ে টহল কার্যক্রম তীব্র করা হয়েছে। সেইসাথে ফুট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অন্যান্য অপরাধ মোকাবিলার জন্য সর্তকতা প্রচারণা চলছে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, যেকোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, সোয়াডস টিম, ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা। একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, সে জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
তিনি জানান, সরকার নির্দেশিতভাবে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে নৌবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সময়ে তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা অবাধিত হয়েছে।
এদিকে বুধবার দুপুরে টেকনাফ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বৈঠক করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যেকোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রতিরোধে নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রিয়ার এডমিরাল মঈনুল হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময় ভোটারদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য নৌবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি জানান, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য নৌ সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আইনানুগ নির্দেশনা ও আচরণবিধি দেওয়া হয়েছে। তদুপরি জরুরি পরিস্থিতিতে জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, সোয়াডস টিম, ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি কঠোর করার কাজও চলছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে। বরাবরের মতো বাংলাদেশ নৌবাহিনী সংবিধান ও আইনের আলোকে অর্পিত দায়িত্ব সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে পালন করতে প্রস্তুত।
নির্বাচন সংক্রান্ত নৌবাহিনীর এই কার্যকলাপ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বেশি বলা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ