০২:৩২ পি.এম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রি করার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন চেয়েছিলেন বলে সোমবার (৩ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে নিউইয়র্ক পোস্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার পরিকল্পনাটি বাতিল হওয়ার পর ইনফান্তিনো একাধিকবার ফোন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি সফল হতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, নেতিবাচক সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক সমালোচনার কারণে ইনফান্তিনো নিজেকে 'বিচ্ছিন্ন' অনুভব করছিলেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফিফা কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ফিফার বাণিজ্যিক সম্পদ আলাদা করার উদ্যোগ হিসেবে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর ও সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। ফিফার পরিকল্পনা ছিল বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার এফএফই'র ওপর ন্যস্ত করা। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে তারা প্রায় ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বিভিন্ন অংশীজনের তীব্র বিরোধিতার কারণে, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা। পরিকল্পনাটি বাতিল হওয়ার পর এখন দৃষ্টি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যতের দিকে। ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদের জন্য আবারও ফিফা সভাপতির পদাধিকারী হওয়ার তার প্রচেষ্টা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে, এই ব্যর্থতার কারণে। ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত চলতি বিশ্বকাপসহ একাধিক বড় ফুটবল অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনফান্তিনো ট্রাম্পের হাতে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ফিফা পিস প্রাইজ তুলে দেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনাকে ঘিরেও তাদের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে, কারণ এই চুক্তির প্রধান বিনিয়োগকারী হওয়ার কথা ছিল থ্রাইভ ক্যাপিটাল, যার প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার। তিনি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। নিউইয়র্ক পোস্ট আরও জানায়, ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের পরিকল্পনাও করেছিলেন। দুটি সূত্র জানাচ্ছে সোমবার সকাল ৯টার (ইস্টার্ন টাইম) কিছু পরেই রুবিওর সঙ্গে তার ফোনে কথা হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সহকারী সচিব ডিলান জনসন এক্সে (সাবেক টুইটার) পোষ্ট করে জানান, রুবিওর সঙ্গে ইনফান্তিনোর কোনো ফোনালাপের পরিকল্পনা নেই এবং 'আজ সকালের জন্য এমন কোনো কল নির্ধারিতও নয়।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন