বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:০৩ পি.এম
ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে এখন ব্যক্তিগত তথ্য নাগরিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হয়েছে। একটি মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর অথবা জন্মতারিখ, এগুলো এখন আর কেবল তথ্য নয়; বরং এগুলোই একজন নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয়। ব্যাংক হিসাব খোলা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট, মোবাইল ব্যাংকিং, চিকিৎসাসেবা, কর পরিশোধ কিংবা সরকারি ভাতা, এই সবকিছুই আজ ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং, এসব তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল প্রযুক্তিগত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়, এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের অবধানের অপরিহার্য শর্ত।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, ব্যক্তির বাসস্থান, যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে। তবে ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তার এই পরিধি এখন চিঠিপত্র বা বাসস্থানে সীমাবদ্ধ নয়; এই গোপনীয়তার অংশ হিসেবে রয়েছে নাগরিকের মোবাইল নম্বর, বায়োমেট্রিক তথ্য, অবস্থান, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং অনলাইন কার্যক্রম। এই কারণে আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন আবশ্যক।
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দুর্বলতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ২০২৩ সালে, যখন সরকারি একটি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে প্রায় পাঁচ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এই তথ্য ফাঁসে নাম, মোবাইল নম্ব, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং ঠিকানা সহ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। দেশি এবং বিদেশি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডেটা লিকের একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও তদন্ত, ব্যাখ্যা এবং আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তবে ঘটনা এই বিষয়টি প্রকাশ করেছে যে, রাষ্ট্রীয় তথ্যভাণ্ডারের একটি দুর্বলতাই কোটি মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এছাড়া, কেবল এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনা নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাইবার প্রতারণার ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের সাইবার ইউনিট এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সতর্কবার্তায় নিয়মিতভাবে ফিশিং লিংক, ভুয়া কাস্টমার কেয়ার, কিউআর কোড প্রতারণা, সিম সোয়াপিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দখল এবং মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া কণ্ঠস্বর বা ছবি তৈরি করে প্রতারণার ঘটনার সংখ্যা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে।
ডিপফেক ভিডিও, ভয়েস ক্লোনিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর পরিচয় জালিয়াতি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলছে। এই অপরাধগুলির পিছনে রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্যের অনিয়ন্ত্রিত প্রাপ্যতা।
তবুও উদ্বেগ কোথাও কমছে না। অনেক সময় প্রতারণার ঘটনা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে ঘটে, যেমন ওটিপি হাতিয়ে নেওয়া, ভুয়া কাস্টমার কেয়ারের ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা পরিচয় চুরির ঘটনা ঘটে। প্রতারকদের অনেকেই ভুক্তভোগীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জানেন। প্রশ্ন হলো, এই তথ্যগুলো কোথা থেকে পাচ্ছে? প্রতিটি ঘটনার উৎস হয়তো এক নয়, তবে বাস্তবতা হলো, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতভাবে দুর্বল রয়েছে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে কোন তথ্য কত দিনের জন্য নেওয়া হচ্ছে, কত সময় ধরে সংরক্ষণ হবে এবং কার সঙ্গে ভাগ করা যাবে, সেই বিবরণ এখনো সুস্পষ্ট ও কার্যকর আইনের অভাবে নেই। সেখানে তথ্য ফাঁস হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কী প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে, তা সম্পর্কে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনও প্রয়োজন। "যত বেশি, তত ভালো" একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠছে যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনে আইন রয়েছে। ২০২৩ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়। তবে এই আইন প্রধানত সাইবার অপরাধ ও শাস্তির পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ; ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, তথ্য ব্যবহারের সীমা, নাগরিকের সম্মতি ও তথ্য নিয়ন্ত্রকের দায়বদ্ধতার জন্য কোনও পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তুলে না। ফলে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকের অধিকার ও প্রতিকার এখনো আলোচনায় আনতে হয়নি।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে, যা পরবর্তীতে ২০২৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে আরও উন্নত করা হয়। এটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়ন, শক্তিশালী ও স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা, তথ্য ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত প্রতিকার সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিডিপিআর (GDPR) প্রতিষ্ঠানে নাগরিকের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে দেয়া হয় না। তথ্য কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, কত দিন রাখা হবে এবং নাগরিক চাইলে কীভাবে তা মুছে ফেলা হবে, এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত উপাত্ত সুরক্ষা আইনেও (Data Protection Act) ইউরোপের এই GDPR’র অনেক নীতির মধ্যে ডেটা লোকালাইজেশন, ডেটা প্রসেসর ও কন্ট্রোলারের দায়বদ্ধতার মতো বিষয়গুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি আন্তর্জাতিক মানের কাঠামোর কার্যকর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।
এখন বিষয়টি শুধুমাত্র রাষ্ট্রের নয়, বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুতর দায়িত্ব রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার পরিবর্তে তথ্য সংগ্রহে বেশি আগ্রহী। আবার কোথাও কর্মীদের অসতর্কতা, কোথাও দুর্বল সার্ভার, আর কোথাও নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষার অভাব কারণে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্যকে অনেক সময় সম্পদ হিসেবে নয়, বরং দায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও একবার তথ্য ফাঁস হলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।
সবার শেষে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। অপরিচিত লিংক ক্লিক না করা, ওটিপি বা ব্যাংকিং তথ্য কাউকে না দেওয়া, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখাও এখন বিলাসিতা নয়; এগুলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ন্যূনতম শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিজিটাল রাষ্ট্র গড়তে হলে নাগরিকের আস্থা অর্জন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই আস্থা কেবল নতুন অ্যাপ, স্মার্ট সেবা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে নয়, বরং তৈরি হবে তখনই, যখন মানুষ নিশ্চিত হবে যে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান তার ব্যক্তিগত তথ্যের বিশ্বস্ত অভিভাবক।
প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের তথ্য ফাঁসের ঘটনা আমাদের একটি কঠিন শিক্ষা দিয়েছে, যে ডিজিটাল অবকাঠামো যত দ্রুত বিস্তৃত হবে, তথ্য সুরক্ষার আইন ও জবাবদিহিও তত শক্তিশালী হতে হবে। অন্যথায় প্রযুক্তির সুবিধা যত বাড়বে, নাগরিকের ঝুঁকিও সেই অনুযায়ী বাড়বে।
ডিজিটাল অগ্রগতির এই সময়ে, বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি নয়, বরং আস্থা। এবং সেই আস্থার ভিত্তি হতে পারে একটি আধুনিক, কার্যকর ও নাগরিককেন্দ্রিক ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন, সুদৃঢ় প্রতিষ্ঠান এবং জবাবদিহিমূলক তথ্য ব্যবস্থাপনা। ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই প্রস্তুতির ওপর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিগত ১৭ বছরের তুলনায় বর্তমানে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্তব্য করেছেন যে, দেশে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন এবং ব্যাংক লুটের খবর নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুরের নদীভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তাঁর এ মন্তব্যটি করেন।
ব্যারিস্টার পার্থ উল্লেখ করেন, গত সাড়ে চার মাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুম, খুন, হয়রানি ও রাজনৈতিক মামলা বা রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন বা বড় ধরনের দুর্নীতি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে অনিয়ম করে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ভোলার শিল্পায়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, 'শুধু গ্যাস থাকলেই শিল্প গড়ে ওঠে না।' ভোলা-বরিশাল সেতুসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ভোলাকে একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা, এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এমপি পার্থ ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে বলেন, সরকার নীতিগতভাবে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরপর পিপিপি পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। একইভাবে ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্যও সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নদীভাঙন বিষয়ে এমপি পার্থ জানান, ভোলার শিবপুর, ইলিশা ও রাজাপুর এলাকায় ভাঙন উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে; তবে কাজের গতি আরও বেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। নদীর গতিপ্রকৃতি এবং কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এছাড়া হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পার্থ বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ জনবলের সংকট এবং ওষুধের বিষয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ননদ জামাইয়ের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে।
ওই গৃহবধূর দাবি, আত্মরক্ষার জন্য তিনি এ কাজ করেছেন। তার অভিযোগ, ননদ জামাই তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন।
এ ঘটনায় আহত মিঠু মল্লিককে (৪০) প্রথমে বরিশাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গাবারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রমজানকাঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিঠু মল্লিক বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চাখার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত মোশাররফ মল্লিকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঝালকাঠিতে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওই গৃহবধূর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে মিঠু মল্লিক গুরুতর আহত হন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত গৃহবধূ জানান, তার স্বামী স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। ঘটনার সময় তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন। ননদও কর্মস্থলে চলে যান। এ সুযোগে মিঠু মল্লিক বাড়িতে এসে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার জন্য একটি ব্লেড দিয়ে তিনি মিঠু মল্লিকের পুরুষাঙ্গে আঘাত করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
গৃহবধূর অভিযোগের বিষয়ে আহত মিঠু মল্লিকের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর কলটি কেটে দেওয়া হয়। পরে একই নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও আর সাড়া মেলেনি। তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির ৩৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নবগঠিত কমিটিতে আব্দুল কাইয়ুম সরকারকে আহ্বায়ক, মো. নায়েব আলী মেম্বারকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. জয়নাল আবেদীন সরকারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন— ডা. মো. কামরুজ্জামান কালু, মো. সাইদুর রহমান মোমেন, হাজী মোরশেদ মিয়া, হাজী আব্দুল মালেক মেম্বার, আব্দুর রশিদ মেম্বার, মিজান মিয়া, হাজী সামসু মিয়া, খলিলুর রহমান কমল, আব্দুল ওহাব মিয়া, আব্দুল হাফিজ মিয়া, আব্দুল মান্নান মেম্বার, খোকা মিয়া, রেজন মিয়া, শহীদ মিয়া, জব্বার মিয়া, আব্দুল কাদির মিয়া ও নাসির উদ্দিন।
সদস্যরা হলো, রুবেল আহম্মেদ, রমজান মেম্বার, বাদশা মিয়া, ফিরোজ মিয়া, হানিফ মিয়া, আবুল হোসেন, দুদুল তালুকদার, জিলু মিয়া, আব্দুল মান্নান মিয়া, শিতল মিয়া, হানিফ মিয়া, পিয়ারা বেগম, মিনা বেগম, সমিয়ারা বেগম, শাহানাজ পারভীন ও বিলকিস বেগম।
দীর্ঘদিন পর আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়ায় উচ্ছাস্বিত তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম সরকার বলেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেয়ায় আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন ও মহিলা সংসদ সদস্য এড শিরীন সুলতানার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। নতুন কমিটির মাধ্যমে আলোকবালী ইউনিয়নে বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত করতে কাজ করা হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও ত্যাগীদের সঙ্গে নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উগান্ডার বিরোধীদলীয় নেতা, কিজা বেসিগে, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানির সময় আদালতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
বেসিগে, যিনি ৭০ বছর বয়সী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে, কিন্তু তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মাসে তার প্রধান আইনজীবীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের শুনানির সময়, বেসিগে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের মামলা পরিচালনার বিরোধিতা করেন।
এ সময় হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে কারারক্ষীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
তার স্ত্রী জানিয়েছেন, বেসিগে কিছু সময় অচেতন ছিলেন। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না এবং তার কোন ব্যথার প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিলেন না।
কিজা বেসিগে দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি সম্পূর্ণরূপে চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসেভেনির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২৪ সালে তাকে কেনিয়া থেকে আটক করে উগান্ডায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে তিনি ও তার সহযোগী, ওবেইদ লুতালে, কারাগারে রয়েছেন।
সরকারের অভিযোগ, তারা প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তবে বেসিগে ও লুতালে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উগান্ডায় রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড।
বেসিগের স্ত্রী জানিয়েছেন, শুরুতে তাকে চিকিৎসা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
প্রথমে বেসিগেকে সরকারি মুলাগো ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে, তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে এবং সেখানে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে, বেসিগের প্রধান আইনজীবী এরিয়াস লুকওয়াগো গত মাসে সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আরেক আইনজীবী, কেনিয়ার রাজনীতিবিদ মার্থা কারুয়াকে বেসিগের আইনি সহায়তার জন্য উগান্ডায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
অসুস্থতার কারণে, বেসিগেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার, বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বুধবার (২৯ জুলাই), তার ছেলে অ্যাডাম আম্পা প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি ও সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবার কাছে মানবিক কারণে বাবাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানান।
আটকের পর এর আগেও কয়েকবার বেসিগেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আটক অবস্থায় অনশন করার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চলতি বছরের শুরুতেও তাকে অল্প সময়ের জন্য চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা, ববি ওয়াইন, বলেছেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বেসিগেকে আদালতে হাজির করা তার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। কিজা বেসিগে একসময় প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। তবে ১৯৯৯ সালে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিলেন এবং ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেননি। সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ